ইরানের হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম দ্বীপ কেশমে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) এ হামলার ঘটনা ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে আট মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যেই কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার খবর সামনে এলো।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে গোপনে সীমিত পরিসরে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। কেশম দ্বীপে সোমবারের হামলাটি সেই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ ঘটনা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ সময় আকাশে দুটি উড়োজাহাজ দেখেছেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কাছে পাঠায়। তবে সোমবার রাতে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বার্তা সংস্থা এএফপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি সেন্টকম।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ছোট পরিসরে হামলা চালিয়ে আসছে মার্কিন বাহিনী। কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা এসব হামলাকে আত্মরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলার সক্ষমতা সীমিত রাখতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেয়নি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত দিতে চায় না ওয়াশিংটন। এ কারণেই হামলার বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগের দিন সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে। তাঁর এ মন্তব্যে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। তবে সংঘাত অবসানে সম্ভাব্য চুক্তির আশায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি কমেছে।
উল্লেখ্য, আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
