ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সহিংসতার ঘটনার পর ১৮ অক্টোবর (রোববার) রাজধানী প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের জমায়েত, পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক বৈষম্য এবং জনসেবার মান নিয়ে অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের একাংশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
রোববার প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এলাকায় কয়েকশ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এর আগে শনিবারের বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন দোকানে লুটপাট, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিষ্কার করতে রোববার প্যারিস সিটি কর্তৃপক্ষ প্রায় এক হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তায় একটি বিশেষ সহায়তা সেল গঠন করা হয়েছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্যারিস অঞ্চলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৮৫৫ বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া বিভিন্ন শহরে শত শত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ আন্দোলনের অন্যতম কারণ হলেও সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা জননিরাপত্তা এবং ব্যবসায়ীদের জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা দেওয়া ফরাসি কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভের অধিকার বজায় রেখে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
