আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড। আসন্ন এই সিরিজকে সামনে রেখে এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করেছে ইংল্যান্ডের নির্বাচকরা। দলটির জাতীয় নির্বাচক মার্কাস নর্থ মনে করেন, বাংলাদেশের কন্ডিশনে ইংল্যান্ডের বর্তমান দলীয় ভারসাম্য বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
এক দশকেরও বেশি সময় পর টেস্ট ক্রিকেটে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড। সর্বশেষ ২০১৬ সালের অক্টোবরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছিল দল দুটি। ওই সিরিজের শেষ ম্যাচে মিরপুরে ইংল্যান্ডকে ১০৮ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে ইংলিশদের বিপক্ষে সেটিই বাংলাদেশের একমাত্র জয়।
বেন স্টোকসের আন্তর্জাতিক অবসরের পর প্রথম টেস্ট সিরিজে বিশেষজ্ঞ স্পিনার ছাড়াই মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের পথে ড্যান লরেন্স ও জো রুটের অফস্পিনের ওপর নির্ভর করেছিল দলটি। বিশেষজ্ঞ স্পিনার শোয়েব বশিরকে ওই সিরিজে মাঠে পানি সরবরাহের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরবর্তী টেস্ট সিরিজেও একই দলীয় ভারসাম্য ধরে রাখতে চায় ইংল্যান্ড। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের পরিকল্পনা ভিন্নভাবে সাজাতে হচ্ছে তাদের। উপমহাদেশের কন্ডিশনে স্পিনের কার্যকারিতা বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে স্পিন বিভাগকে শক্তিশালী করতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।
ইংল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচক মার্কাস নর্থ জানিয়েছেন, রিচার্ড ডওসনের সাম্প্রতিক নিয়োগ শুধু স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; জাতীয় দলের স্পিন বোলিং উন্নয়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও টেস্ট ক্রিকেটে সক্ষমতার প্রশংসা করে নর্থ বলেন, ‘তারা (বাংলাদেশ) এখন একটি ভালো ক্রিকেট দল, ভালো একটি টেস্ট দল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমন নয় যে আমরা শুধু সেখানে যাব এবং ভালো কয়েকজন স্পিনারের মুখোমুখি হব। তাদের বেশ কয়েকজন ভালো পেসারও আছে। আমরা জানি, এটি খুব ভালো একটি টেস্ট সিরিজ হতে যাচ্ছে। আমাদের এমন একটি স্কোয়াড প্রয়োজন, যেখানে ওই কন্ডিশনে খেলার জন্য সব ধরনের বিকল্প থাকবে।’
এদিকে ইংল্যান্ডের স্পিন বিভাগে নতুন মুখদের অন্তর্ভুক্তি অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার জ্যাক লিচের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। শোয়েব বশিরের পাশাপাশি রেহান আহমেদ সম্প্রতি কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা পেয়েছেন। নর্থের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে লিচের দলে ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম।
২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজের ৩৯তম টেস্ট খেলেছিলেন লিচ। এরপরও ইংল্যান্ডের পরিকল্পনায় তার জায়গা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অথচ গত দুই মৌসুমে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম বিভাগে ৮৮ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন এই স্পিনার। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের দল গঠনে অভিজ্ঞতার চেয়ে কন্ডিশন উপযোগিতা ও বিকল্পের বৈচিত্র্যকেই বেশি গুরুত্ব দিতে পারে ইংল্যান্ড।
