স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনালের প্রথম আধা ঘণ্টা তেমন রোমাঞ্চ ছড়াতে পারেনি। তবে মাঠের ভেতরে অদ্ভুত এক বিস্ময় আর চাপা উত্তেজনা ছিল।
মৌসুমের প্রথম ফাইনাল, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা—এমন ম্যাচে রিয়ালের আক্রমণাত্মক তাড়না চোখে পড়েনি। বরং রক্ষণাত্মক কৌশলে পিছিয়ে থেকে খেলেছে তারা। বলের দখল কম, আক্রমণ বলতে মূলত প্রতি আক্রমণই ভরসা। বল হারালে দ্রুত পুনরুদ্ধারের তাগিদও ছিল না; অনেকেই নেমে যাচ্ছিলেন নিচে।
রবার্ট লেভানডফস্কি, রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামালের মতো আক্রমণভাগের বিপক্ষে এমন কৌশলে বেশিক্ষণ টিকে থাকা কঠিন—তা প্রমাণ পেতে বেশি সময় লাগেনি। ৩৫ মিনিটে রিয়াল কোচ জাবি আলোনসোর দলকে প্রথমবার জাল থেকে বল কুড়াতে হয় গোলকিপার থিবো কোর্তোয়াকে।
এরপর আরও ১০–১২ মিনিট খেলা এগোয় একই ছকে। আর তারপরই যেন ভেঙে পড়ে উত্তেজনার সব বাঁধ। প্রথমার্ধের যোগ করা তিন মিনিটেই দেখা যায় তিনটি গোল!
একুশ শতকে এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তিন গোল—এমন দৃশ্য আগে দেখা যায়নি। কয়েকটি মুহূর্ত আর দুর্দান্ত কিছু মুভে ম্যাচ তখন থ্রিলার সিনেমার রূপ নেয়। বিরতিতে কেউ এগিয়ে নেই, স্কোরলাইন ২–২। পাঞ্চ আর পাল্টা পাঞ্চে জমে ওঠা এক অবিশ্বাস্য ‘ইন্টারভাল’।
৪৬ মিনিটে গঞ্জালো গার্সিয়া, ৪৭ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ৪৯ মিনিটে লেভানডফস্কির গোল ম্যাচের নাটকে এনে দেয় একের পর এক মোচড়।
দ্বিতীয়ার্ধে হয়েছে মাত্র একটি গোল। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তের উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়েছিল যে বিরতির পর কেউ না কেউ গোল করবেই—এমনটাই ধরে নেওয়া হয়েছিল।
আর সেই ‘কেউ’ আবারও রাফিনিয়া। ম্যাচে প্রথম গোল করা এই উইঙ্গারই ৭৩ মিনিটে বার্সাকে এনে দেন জয়সূচক গোল। বক্সের মাথা থেকে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে নেওয়া তাঁর শট রিয়াল ডিফেন্ডার রাউল আসেনসিওর পায়ে লেগে দিক পাল্টে যায়। থিবো কোর্তোয়া পুরোপুরি ভুল পায়ে পড়েন, বল জড়ায় জালে।
এই গোলেই শেষ পর্যন্ত ৩–২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা। মৌসুমের প্রথম শিরোপা জয়ের সঙ্গে সঙ্গে ফাইনালে বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিকের জয়রথ আরও দীর্ঘ হয়। এটি তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের ১৫তম ফাইনাল—এখনো পর্যন্ত একটিও হাতছাড়া হয়নি।
