শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১৪টি ব্যাংকের মধ্যে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ৯টির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে। বিপরীতে, ৫টি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি মুনাফা প্রবৃদ্ধি করেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় এক বছরের ব্যবধানে ১৪৪ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে প্রায় ৫৩০ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ব্যাংকগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের আর্থিক ফলাফলের সঙ্গে আগের বছরের একই সময়ের তুলনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মুনাফায় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬ টাকা ১৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ২ টাকা ৫২ পয়সা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৩ টাকা ৬৩ পয়সা বা ১৪৪ শতাংশ।
এ সময়ে পূবালী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় ৫ টাকা ৮৩ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ১৫ পয়সা হয়েছে। এতে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশ। ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় ৫ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৭ টাকা ৭০ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি।
ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় ৩ টাকা ৫৬ পয়সা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ১০ পয়সা হয়েছে। এতে ব্যাংকটির ইপিএস প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ।
এ ছাড়া ব্যাংক এশিয়ার শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৩৭ শতাংশ, যমুনা ব্যাংকের ২০ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংকের ৯ শতাংশ এবং মিডল্যান্ড ব্যাংকের ৮১ শতাংশ।
এদিকে এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ৫৮ পয়সা হয়েছে। ফলে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ৪৮০ শতাংশ। তবে আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় তুলনামূলক কম থাকায় প্রবৃদ্ধির হার বেশি দেখা যাচ্ছে।
পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে
অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ওয়ান ব্যাংক, ইউসিবি, ট্রাস্ট ব্যাংক ও এমটিবির শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে। ওয়ান ব্যাংকের ইপিএস ১ টাকা ৭ পয়সা থেকে কমে ৮৮ পয়সা হয়েছে, যা প্রায় ১৮ শতাংশ কম।
ইউসিবির শেয়ারপ্রতি আয় ৩২ পয়সা থেকে কমে ২৬ পয়সা হয়েছে। এতে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ। ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় ২ টাকা ৫৫ পয়সা থেকে কমে ২ টাকা ১৭ পয়সা হয়েছে। একই সময়ে এমটিবির ইপিএস ১ টাকা ৯২ পয়সা থেকে কমে ১ টাকা ৭৬ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
তবে সবচেয়ে নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক। চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১০ টাকা ৫৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১ টাকা ৬৮ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে ৮ টাকা ৯০ পয়সা বা প্রায় ৫৩০ শতাংশ।
শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যেও পার্থক্য
২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যেও (এনএভিপিএস) উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। পূবালী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ৫৭ টাকা ৫৬ পয়সা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৬২ টাকা ৯৫ পয়সা এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ৫৬ টাকা ৪০ পয়সা। অন্যদিকে রূপালী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৮ টাকা ৪৯ পয়সা।
ব্যাংকগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় বাড়লেও কয়েকটি ব্যাংকের আয় কমেছে। বিশেষ করে রূপালী ব্যাংকের লোকসান বৃদ্ধির চিত্র ব্যাংকটির আর্থিক ফলাফলে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা তুলে ধরেছে।
