ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন ডি দেহের শক্তি জোগায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মোটকথা, এই দুটি উপাদান সুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এদের কার্যকারিতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। চট করে দেখে নেওয়া যাক তুলনামূলক আলোচনা।
ভিটামিন ডি কীভাবে কাজ করে
- ভিটামিন ডি সরাসরি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখে। অনেক ইমিউন সেল ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ভিটামিন ডির ওপর নির্ভর করে।
- ভিটামিন ডির অভাবে শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশন ও পেশির দুর্বলতা দেখা দিতে পারে, ফলে ক্লান্ত লাগে।
- ভিটামিন ডি সরাসরি পেশিশক্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখে না। তবে পেশিশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে। ভিটামিন ডির অভাবে পেশির দুর্বলতা ও ক্লান্তি বাড়তে পারে।
- তবে অতিরিক্ত ভিটামিন ডি নেওয়া শরীরের পক্ষে ভালো নয়, বরং এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
ভিটামিন ডির উৎস
- সূর্যের আলো
- সামুদ্রিক মাছ
- দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার
- ডিমের কুসুম
- সাপ্লিমেন্ট
ম্যাগনেশিয়াম কী কাজ করে
- ম্যাগনেশিয়াম দেহে শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাবার থেকে শক্তি তৈরি করতে সহায়ক।
- এই খনিজ পেশি ও স্নায়ুর কাজ, ঘুম নিয়ন্ত্রণ ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার কার্যকারিতায় সাহায্য করে।
- শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি থাকলে খাবার থেকে শক্তি তৈরি হয় কম, ফলে ক্লান্ত লাগে।
ম্যাগনেশিয়ামের উৎস
ভিটামিন ডি ও ম্যাগনেশিয়াম কেন খাবেন
চল্লিশোর্ধ্ব মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভিটামিন ডি খেতে বলছেন চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদরা। খাবারের মাধ্যমে খুব অল্প পরিমাণেই ভিটামিন ডি শরীরে প্রবেশ করে। তাই ঘাটতি দূর করতে সাপ্লিমেন্ট খেতে বলেন চিকিৎসকরা। তারপরও শুধু ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খেলেই শরীর ঠিক থাকবে? তা কিন্তু নয়। ভিটামিন ডি তখনই ভালো কাজ করবে যখন তার সঙ্গে থাকবে আরও একটি খনিজ উপাদান।
ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খেলে তার সঙ্গে এমন খাবার খেতে হবে, যাতে ম্যাগনেশিয়াম ভরপুর রয়েছে। অর্থাৎ ভিটামিন ডি-এর সঙ্গে ম্যাগনেশিয়াম মেলালে তবেই তা শরীরে ভালো কাজ করবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো নয়, স্থূলত্ব কমাতেও বড় ভূমিকা রাখে ম্যাগনেশিয়াম। ভিটামিন ডি ও ম্যাগনেশিয়ামের মিশেল জীবাণু সংক্রমণ থেকেও বাঁচাবে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ থেকে বাঁচতেও ভিটামিন ডি-এর সঙ্গে ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারই খেতে হবে।
কী খেলে ঘাটতি মিটবে
ভিটামিন ডি-এর ৮০ শতাংশ আসে সূর্যের আলো থেকে। বাকি ২০ শতাংশ বিভিন্ন খাবার থেকে পাওয়া যায়। যেকোনো দানা শস্যেই যথেষ্ট ভিটামিন ডি থাকে। তাই রোজের ডায়েটে ওটস রাখা ভালো। বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছে ভিটামিন ডি বেশি থাকে। টুনা, কড, ভেটকি, বাসা, পমফ্রেট মাছ খেতে পারেন। সেই সঙ্গে ম্যাগনেশিয়াম আছে এমন খাবারও খেতে হবে। একজন প্রাপ্তবয়স্কের সারা দিনে ৩১০ থেকে ৪২০ মিলিগ্রামের মতো ম্যাগনেশিয়াম দরকার। তাই খেতে হবে নানা ধরনের বাদাম, বীজ। প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম থাকে কলায়। এ ছাড়া থাকে পটাশিয়াম এবং ভিটামিন সি-ও। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি করে কলা রাখলে শুধু ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি দূর হবে না, উপকার মিলবে আরও। ম্যাগনেশিয়ামের জন্য খেতে পারেন পালং শাক, কাঠবাদাম, ডার্ক চকোলেট। মটরশুঁটি, ঢেঁড়স, ব্রকলিতেও থাকে ম্যাগনেশিয়াম। অঙ্কুরিত ছোলা খেলেও ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা মিটবে।
সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা
- শুধু ঘাটতি থাকলেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে নির্দিষ্ট মাত্রায় ভিটামিন ডি ও ম্যাগনেশিয়াম সাপ্লিমেন্ট নেওয়া উচিত।
- অতিরিক্ত ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট কিছু ক্ষেত্রে শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ম্যাগনেশিয়াম নিলে ডায়রিয়া বা পেটের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
একনজরে
ভিটামিন ডি আমাদের ইমিউন সিস্টেম ও পেশি শক্তিশালী করে। ম্যাগনেশিয়াম দেহে শক্তি উৎপাদন করে। স্নায়ু-পেশির কাজ ও ঘুম নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। দুটি আলাদা আলাদা কাজ করে, কিন্তু একটি আরেকটির কার্যকারিতা বাড়ায়।
সূত্র: ভেরি ওয়েল হেলথ
