জাকাত ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভের একটি স্তম্ভ। আল্লাহ তা’আলা মুসলমানদের উপর জাকাতকে ফরজ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলার এরশাদ করেছেন ‘নামাজ কায়েম কর ও জাকাত আদায় কর। (আল-বাকারা: ১১০)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা সালাত আদায় কর, যাকাত দাও এবং রাসুলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার। (সুরা নূর, আয়াত : ৫৬)
জাকাত ফরজ ইবাদত, জাকাত করুণার দান নয়, দয়া দাক্ষিণ্যও নয়; এটি বঞ্চিতদের পাওনা অধিকার। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের সম্পদে বঞ্চিত যাঞ্চাকারীদের নির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে।’ (সুরা-৫১ জারিয়াত, আয়াত: ১৯; সুরা-৭০ মাআরিজ, আয়াত: ২৪-২৫)।
জাকাতদাতা নিজের যেসকল আত্মীয়কে জাকাত দিতে পারবে না
১. জাকাতদাতার সরাসরি উর্ধ্বতন যেমন-পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানি উপরের দিকে যারা আছে।
২. অধস্তন যেমন-পুত্র-কন্যা, পৌত্র-পৌত্রী, দোহিত্র-দোহিত্রী, এভাবে নীচের দিকের কেউ জাকাত নিতে পারবে না।
৩. স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে জাকাত দিতে পারবে না।
যাদের যাকাত দেওয়া যাবে (যদি তারা যাকাতের যোগ্য হয়)।
ভাই-বোন, চাচা-চাচী, মামা-মামী, ফুফু-ফুফা, খালা-খালু, ভাগ্নে-ভাগ্নি, এবং শ্বশুর-শাশুড়ী (যদি তারা অভাবী ও যাকাত পাওয়ার যোগ্য হন)।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
যাকাত দেওয়া আত্মীয় যদি আপনার ভরণপোষণের অধীন না হন এবং যাকাতের অন্যান্য শর্ত পূরণ করেন (যেমন – ফকির বা মিসকিন হওয়া), তাহলে তাদের যাকাত দেওয়া জায়েয।
নিকটাত্মীয়দের যাকাত দেওয়া সাধারণ দান বা সদকার চেয়ে উত্তম বলে বিবেচিত হয়, কারণ এটি আত্মীয়তার সম্পর্ক জোরদার করে।
যাকাতের টাকা গোপন করে আত্মীয়কে দিলেও তা আদায় হবে, তবে তাদের যাকাতের হকদার হতে হবে।
