মৌসুমি অসুখের মধ্যে জ্বর একটি অন্যতম ব্যাধি। এর সঙ্গে অনেকেরই মাথা ব্যাথার প্রবণতা দেখা যায়। মাথা ব্যাথা ও জ্বরে আক্রমণ থেকে দ্রুতই নিরাময়ের চেষ্টা করে আক্রান্ত ব্যক্তি। সেই সময়ে কাজ কর্ম, ইবাদত কিছুই মনোযোগ দিয়ে করা যায় না।
কিন্তু একজন মুমিন জানেন, রোগ-শোক শুধু কষ্টের মাধ্যম নয়, বরং এটি গোনাহ মাফের সুযোগও হতে পারে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুমিনের ওপর যা কিছু কষ্ট আসে, এমনকি একটি কাঁটার খোঁচাও তা তার গোনাহ মাফের কারণ হয়। (বোখারি : ৫৬৪১)
তবে, এর মানে এই নয় যে আমরা আরোগ্যের চেষ্টা করব না। বরং ওষুধ, চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতাসহ কোরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত দোয়াগুলো পড়া আমাদের কর্তব্য।
দ্রুত মাথাব্যথা মুক্তিতে এ দোয়া পড়ুন
لَا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنزِفُونَ
উচ্চারণ : লা ইউসাদ্দাউনা আনহা ওয়া লা ইউনজিফুন।’
অর্থ : যা পান করলে তাদের শিরপীড়া হবে না এবং তারা বিকারগ্রস্ত ও হবে না। (সুরা ওয়াক্বিয়া : ১৯)
জ্বরের সময় পড়ার দোয়া
যে কোনো ধরনের জ্বরে এ দোয়া পড়ে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা আবশ্যক। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জ্বর ও গলা ব্যথায় এভাবে প্রার্থনা করতে শিক্ষা দিতেন-
بِسْمِ اللَّهِ الْكَبِيرِ أَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ مِنْ شَرِّ كُلِّ عِرْقٍ نَعَّارٍ وَمِنْ شَرِّ حَرِّ النَّارِ
উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহিল কাবির, আউজুবিল্লাহিল আজিম, মিন শাররি কুল্লি ই’রকিন নায়্যার, ওয়া মিন শাররি হাররিন নার।’ (নাসায়ি, মকবুল দোয়া : ১৬৩)
অর্থ : মহান আল্লাহর নামে, দয়াময় আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, শিরা-উপশিরায় শয়তানের আক্রমণ থেকে। শরীরের আগুনের উত্তাপের মন্দ প্রভাব থেকে।
অবশ্যই রোগ থেকে মুক্ত থাকতে যথাযথ স্বাস্থ্য সচেতনা ও চিকিৎসা গ্রহণ করা যেমন জরুরি। তেমনি কুরআন-হাদিসে তা থেকে মুক্ত হওয়ার দোয়াও রয়েছে।
