রাজধানীর বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতের নতুন সবজি। তবে শীতের আগাম সবজির দেখা মিললেও দাম চড়া হওয়ায় স্বস্তি নেই ক্রেতাদের মধ্যে। নতুন আলু কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা এবং দেশি টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ সবজির দাম ৬০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে। কিছু সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় বাড়তি চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শুধু সবজি নয়, মাছের বাজারেও চড়া দামের প্রভাব দেখা গেছে। বিশেষ করে বড় আকারের মাছ, সামুদ্রিক মাছ ও ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
৩০ অক্টোবর (শুক্রবার) রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে নতুন আলুসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে সরবরাহের তুলনায় দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। সবজি ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন জানান, প্রতি কেজি নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। বাজারে নতুন কোনো সবজি বা পণ্য উঠলে শুরুতে দাম কিছুটা বেশি থাকে।
সবজি কিনতে আসা কাদের সাহেব বলেন, ‘টেলিভিশনে দেখি, পাঁচ টাকা দিয়েও কেউ লাউ কিনছে না। অথচ রাজধানীর বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকার নিচে কোনো লাউ পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ সবজির দামই ১০০ টাকার আশপাশে। শীত এলে সাধারণত সবজির দাম কমার কথা, কিন্তু এবার দেখছি উল্টো চিত্র।’
বাজারে প্রতি কেজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৬০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা এবং গোল বেগুন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁকরোল ১০০ টাকা, কচুমুখী ৮০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা এবং শিম ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
টমেটোর মধ্যে সাধারণ টমেটো প্রতি কেজি ১২০ টাকা এবং দেশি টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা। এ ছাড়া কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা, জলপাই ৮০ টাকা এবং নতুন আলু ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রতি ডজন বাদামি ডিম ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, মাছের বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া রুই মাছ ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চাষের শিং ৪৫০ টাকা এবং বায়লা ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বড় আকারের কাতল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি শিং মাছের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকা। বড় আকারের চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং সামুদ্রিক পাঙাশ ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে।
ইলিশের দামও বেশ চড়া। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকা।
মাছ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল বলেন, ‘সাগরের মাছের দাম সব সময়ই বেশি থাকে। হাজার টাকার নিচে বিক্রি হয় না। দেশি মাছের দামও বেশি। চাষের মাছের দামও ২০০ টাকার ওপরে। আজ আইড় মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি।’
তবে বাজারে মাছের দাম বেশি হলেও মানের কারণে অনেক ক্রেতা টাউন হল মার্কেটকে বেছে নিচ্ছেন বলে জানান ক্রেতা আজাদ রহমান। তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদপুরের অন্যান্য বাজারের তুলনায় টাউন হল মার্কেটে মাছের দাম একটু বেশি থাকে। দাম বেশি হলেও এখানে তরতাজা মাছ পাওয়া যায়।’
সব মিলিয়ে শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও দাম কমার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না ক্রেতাদের। পাশাপাশি মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারেও বাড়তি দামের কারণে নিত্যপণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
