ঘুম আল্লাহর নেয়ামত। ঘুমালে মানুষ স্বপ্ন দেখে।মানুষ কর্ম ব্যস্ত জীবনে ক্লান্ত শরীরে বিশ্রামে যায়। অনেক সময় ঘুমের ঘোরে দিনের ব্যস্ত সময়ের ভালো-মন্দ বিষয়গুলোর একটা প্রভাব তার মাঝে রয়ে যায়। যে কোনো ভয়ের মুহূর্তেই আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত।
হজরত আমর ইবনে শুয়াইব (রহ.) তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, তারা বলেছেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) তাদের ভীতিকর পরিস্থিতিতে এই বাক্যগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করার শিক্ষা দিতেন-
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ، وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّياطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ
(আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লাহিত্তা-ম্মাতি মিন্ গাদ্বাবিহি ওয়া ইক্বা-বিহি ওয়া শাররি ‘ইবা-দিহি ওয়ামিন হামাযা-তিশ্শায়া-ত্বীনি ওয়া আন ইয়াহ্দুরূন)।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) এই বাক্যগুলো তার সাবালক সন্তানদের শেখাতেন এবং নাবালকদের জন্য লিখে তা তার গলায় ঝুলিয়ে দিতেন। (আবু দাউদ : ৩৮৯৩, তিরমিজি : ৩৫২৮)
নবীজি (সা.) বলেছেন, যখন কেয়ামত নিকটবর্তী হবে, তখন বেশিরভাগ সময়ই মুসলমানদের স্বপ্ন মিথ্যা হবে না। আপনাদের মধ্যে সর্বাধিক সত্যভাষী ব্যক্তি সর্বাধিক সত্য স্বপ্ন দেখবে। আর মুসলমানের স্বপ্ন নবুয়তের পঁয়তাল্লিশ ভাগের এক ভাগ। স্বপ্ন তিন প্রকার, ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ হিসেবে আসে। কিছু স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে আসে যা দুশ্চিন্তা বা দুর্ভাবনা তৈরি করে। আর কিছু স্বপ্ন মানুষের নিজের চিন্তাভাবনা থেকে তৈরি হয়। (মুসলিম : ৫৭০৮)
সুতরাং ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলে উক্ত দোয়া পড়া এবং স্বপ্নের অনিষ্ট হতে রক্ষা পেতে আল্লাহ তাআলা নিকট প্রার্থনা করা জরুরি।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঘুমে মধ্যে ভয় পেলে বা খারাপ স্বপ্ন দেখলে এ দোয়ার মাধ্যমে সাহায্য লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।
