মানুষকে খুশি করতে গেলে খুব কষ্ট হয়, কারণ সবাইকে খুশি করা অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহকে খুশি করা খুব সহজ সৎ পথে চললে, নামাজ পড়লে, সত্য বললে আল্লাহ খুশি হন। আর আল্লাহ খুশি হলে আপনার মনটা ফুলের মতো হালকা ও শান্ত হয়ে যায়।
মানুষের খুশি লাভের চেষ্টা জীবনকে ক্লান্ত ও ভারী করে দেয়। কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টিকে লক্ষ্য করলে হৃদয় হালকা হয়, আত্মা প্রশান্ত হয়, আর জীবন পায় প্রকৃত দিশা। আল্লাহ বলেন তার সন্তুষ্টিই সর্বোচ্চ সফলতা। নবীজী (সা.) বলেন, যে আল্লাহকে খুশি রাখে, আল্লাহ তাকেই সম্মানিত করেন।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান! তুমি যত দিন পর্যন্ত আমার কাছে দু’আ করতে থাকবে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে, আমি তত দিন তোমার গুনাহ মাফ করতে থাকব, তুমি যা-ই করে থাকো আমি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করব না। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশের উচ্চতা পর্যন্তও পৌঁছে যায়, অতঃপর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, তবু আমি তোমাকে ক্ষমা করব, আমি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করব না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে আসো এবং আমার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক না করে থাকো, তাহলে আমিও সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে আসব। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৪০)
আলোচ্য হাদিসে আল্লাহ তা’আলা তাঁর অসীম দয়ার বর্ণনা দিয়েছেন। বান্দাকে তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের প্রতি আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। বলেছেন, বান্দার গুনাহ যত বেশিই হোক না কেন, আল্লাহ তা আপন দয়ায় ক্ষমা করে দেবেন। যদি সে যথানিয়মে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। মুহাদ্দিসরা দু’আ ও ক্ষমা প্রার্থনার কিছু নিয়ম বর্ণনা করেছেন। যেভাবে দু’আ করলে আল্লাহ বেশি খুশি হন এবং তা দু’আ কবুলে সহায়ক হয়।
হযরত ওমর রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি-
إِنمَا الأَعْمَالُ بِالنِّياتِ، وَإِنمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى.
আমলের প্রতিদান দেয়া হবে নিয়ত অনুযায়ী। প্রত্যেকে তা ই পাবে, যা সে নিয়ত করেছে। সহীহ বুখারী, হাদীস ১
মুমিন বুদ্ধিমান। সে আল্লাহকে খুশি করার জন্য ভালো কাজ করে; আল্লাহ্কে খুশি করার জন্য মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে। কারণ, আমাদের ভালো কাজের ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার পুরস্কার তো দিবেন আল্লাহ। সুতরাং আমার সব কাজ হবে আল্লাহর জন্য, আল্লাহকে খুশি করার জন্য।
আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহকে খুশি করার জন্য কোনো কাজ করাকে বলে ইখলাস। যে কোনো আমল কবুল হওয়ার জন্য ইখলাস জরুরি।
সুতরাং আমি সব কাজ করব আল্লাহর জন্য, আল্লাহকে খুশি করার জন্য। কারণ, আল্লাহই আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আমাকে সকল নিআমত দান করেছেন। মৃত্যুর পর আমি তাঁর কাছেই ফিরে যাব। তিনিই আমাকে আমার আমলের পুরস্কার দিবেন।
