রাজধানীতে হঠাৎ শীতের প্রকোপ বেড়েছে। ঘনকুয়াশার সঙ্গে রয়েছে হিমেল বাতাসও। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় হাঁড় কাঁপানো শীত পড়ছে। এ অবস্থায় ঠান্ডা পানি দিয়ে অজু-গোসল করা কষ্টকর।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এর বর্ণিত হাদিস আমাদের এই প্রশ্নের দিকে নতুন এক দৃষ্টিতে তাকাতে শেখায়-যেখানে দুনিয়ার ঠান্ডা আমাদের মনে করিয়ে দেয় আখিরাতের এক ভয়াবহ বাস্তবতা।
অসুস্থ হওয়ার প্রবল আশঙ্কা: যদি পানি ব্যবহার করলে নিশ্চিতভাবে অসুস্থ হওয়ার ভয় থাকে অথবা বর্তমান রোগ মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে তায়াম্মুম করা যাবে।
পানি গরম করার ব্যবস্থা না থাকা: যদি পানি এতটাই ঠান্ডা হয় যে তা ব্যবহার করলে শরীরের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং সেই পানি গরম করার মতো কোনো মাধ্যম (চুলা, হিটার বা আগুন) না থাকে, তবে তায়াম্মুম করা জায়েজ।
তীব্র শৈত্যপ্রবাহ: যদি শীতের তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে গোসল করলে মৃত্যু বা অঙ্গহানির আশঙ্কা থাকে, তবে তায়াম্মুম করা যাবে।
হাদিসের প্রমাণ।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— ‘ধাতুস সালাসিল’ যুদ্ধের সময় এক অত্যন্ত ঠান্ডা রাতে আমার স্বপ্নদোষ হয়। আমার আশঙ্কা হলো যে যদি আমি গোসল করি তবে আমি মারা যাব। তাই আমি তায়াম্মুম করলাম এবং আমার সাথীদের নিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করলাম। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পৌঁছালে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আমর! তুমি অপবিত্র থাকা সত্ত্বেও সাথীদের নিয়ে নামাজ পড়লে?’ আমি জানালাম— মহান আল্লাহর বাণী ‘তোমরা নিজেদের হত্যা করো না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর অত্যন্ত দয়ালু’ (সূরা নিসা, আয়াত: ২৯) মনে করে আমি তায়াম্মুম করেছি। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) মুচকি হাসলেন এবং কিছুই বললেন না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৩৪)। রাসূল (সা.)-এর এই নীরবতা তায়াম্মুমের বৈধতার প্রমাণ।
তায়াম্মুমের সঠিক নিয়ম: তায়াম্মুম করার জন্য পবিত্র মাটি বা মাটিজাতীয় বস্তু (যেমন— ধুলোবালি, পাথর, সিমেন্ট, ইটের দেয়াল) প্রয়োজন। তায়াম্মুমের প্রধান কাজ তিনটি।
নিয়ত করা: মনে মনে এই সংকল্প করা যে, আমি পবিত্রতা অর্জনের জন্য তায়াম্মুম করছি।
মুখমণ্ডল মাসেহ করা: বিসমিল্লাহ বলে দুই হাত পবিত্র মাটিতে আঘাত করে বা হাত রেখে পুরো মুখমণ্ডল একবার মাসেহ করা।
হাত মাসেহ করা: পুনরায় মাটিতে হাত মেরে উভয় হাত কনুইসহ (মতান্তরে কবজি পর্যন্ত) একবার মাসেহ করা। প্রথমে ডান হাত এবং পরে বাম হাত মাসেহ করতে হয়।
শীত বা গরম সব অবস্থাতেই ধীরে-সুস্থে ও সুন্দরভাবে অজু করা উচিত, তাড়াহুড়া বা দায়সারাভাবে নয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক আমল করার তাওফিক দান করুন।
আমিন।
