ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। এতে মানুষের সব বিষয়ের সুষ্ঠু সমাধান রয়েছে। মানুষের পরিচয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে তার নাম। তাই তো ইসলামে নাম রাখার গুরুত্ব অপরিসীম।
আল্লাহর প্রতি দাসত্ব প্রকাশ: ‘আব্দ’ (দাস) শব্দের সাথে আল্লাহর গুণবাচক নাম যুক্ত করে নাম রাখা, যেমন: আব্দুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা), আব্দুর রহমান (পরম দয়ালুর বান্দা)।
নবী-রাসুল ও নেককারদের নাম: নবী-রাসুল (আঃ) যেমন: ইব্রাহিম, মূসা, মরিয়ম, ফাতেমা, আয়েশা বা সাহাবী (রাঃ) যেমন: উসমান, আলী, হাসান, হুসাইন-এর নামে নাম রাখা।
অর্থবহ ও সুন্দর নাম: এমন নাম রাখা যা সুন্দর অর্থ বহন করে (যেমন: করিম – দাতা, আমিনা – বিশ্বস্ত), এবং যা শুনে মানুষ ভালোবাসে।
খারাপ বা আপত্তিকর অর্থযুক্ত নাম পরিহার: যে নামের অর্থ খারাপ, অশুভ, বা যা শুনলে মানুষ লজ্জা পায়, বা যা কোনো অত্যাচারী বা খারাপ ব্যক্তির নাম, তা রাখা যাবে না।
অহংকারপূর্ণ নাম নয়: “রাজাদের রাজা” বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করে এমন দাম্ভিক নাম রাখা উচিত নয়।
অ-আরবি নামের ক্ষেত্রে: আরবি না হলেও যদি ভালো অর্থ থাকে তবে রাখা যেতে পারে।
নাম রাখার সময়: শিশুর জন্মের সপ্তম দিনে নাম রাখা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)।
উদাহরণ।
ছেলেদের জন্য: মুহাম্মদ, আহমদ, আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহিম, ইব্রাহিম, হাসান, হুসাইন, উমর, আলী, ইয়াসিন, তারিক।
মেয়েদের জন্য: ফাতিমা, আয়েশা, মরিয়ম, আছিয়া, জamilah (Jameelah), খাদিজা, সাফিয়া।
গুরুত্ব: সুন্দর নাম রাখা পিতা-মাতার প্রথম দায়িত্ব, যা সন্তানের প্রতি তাদের প্রথম হক (অধিকার)। এটি ইসলামী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও অংশ।
সুন্দর নাম রাখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল, হাশরের ময়দানে সেখানে পূর্বাপর সকল মানুষ একত্রিত হবে এবং ব্যক্তিকে তার নাম ও তার বাবার নামসহ ডাকা হবে। হজরত আবুদ দারদা (রা.) বলেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِنّكُمْ تُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ، وَأَسْمَاءِ آبَائِكُمْ، فَأَحْسِنُوا أَسْمَاءَكُمْ
অর্থ: কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে ডাকা হবে তোমাদের ও তোমাদের বাবার নাম নিয়ে (অর্থাৎ এভাবে ডাকা হবে- অমুকের ছেলে অমুক)। তাই তোমরা নিজেদের জন্য সুন্দর নাম রাখ। (আবু দাউদ: ৪৯৪৮)।
একজন অপরজনের নাম সম্পর্ক অবগত হওয়া ঈমানী ভালোবাসা এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্বেরও দাবি। তাই এমন নাম রাখা উচিত নয়, যা বলতে মানুষ লজ্জাবোধ করে।
ইয়াযীদ ইবনে নাআমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন
إِذَا آخَى الرّجُلُ الرّجُلَ فَلْيَسْأَلْهُ عَنْ اسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ وَمِمّنْ هُوَ، فَإِنّهُ أَوْصَلُ لِلْمَوَدّةِ
অর্থ: কেউ যখন অন্যের সাথে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে তুলতে চায় তাহলে সে যেন তার নাম, তার বাবার নাম ও বংশের কথা জিজ্ঞেস করে। এর দ্বারা ভালোবাসার বন্ধন আরো গভীর হয়। (তিরমিজি: ২৩৯২)।
