আল্লাহ ফেরেশতাদের বিভিন্ন দায়িত্বে নিযুক্ত করে রেখেছেন। কোরআন ও হাদিসে নির্দিষ্ট করে তাদের সংখ্যা বলা না হলেও হাদিসের বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, এ সংখ্যা মানুষের কল্পনারও বাইরে।
কোরআন ও হাদিসে তাঁদের কাজের কিছু কিছু বর্ণনাও পাওয়া যায়। এর বাইরেও আল্লাহর অসংখ্য ফেরেশতা এমন আছেন, যাঁদের সংখ্যা ও কাজ মহান আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। বিভিন্ন হাদিসে কয়েকজন প্রসিদ্ধ ফেরেশতার নাম ও দায়িত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান ফেরেশতা ও তাদের দায়িত্ব।
জিবরাইল (আ.) (আলাইহিস সালাম): আল্লাহর বাণী ওহীরূপে নবী-রাসূলদের কাছে পৌঁছে দেন (রূহুল আমীন)।
মিকাইল (আ.): বৃষ্টি বর্ষণ, রিজিক ও খাদ্য উৎপাদনের দায়িত্বে নিয়োজিত।
ইসরাফিল (আ.): শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার দায়িত্বে, যা কিয়ামতের দিন প্রয়োজন হবে।
মালাকুল মাউত (আ.) (আজরাইল): মানুষের রূহ বা প্রাণ কবজ করার দায়িত্বে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
আমল লিপিবদ্ধকরণ: দুই ফেরেশতা (কিরমান কাতিবিন) মানুষের ভালো-মন্দ সব কাজ লিখে রাখেন।
প্রাকৃতিক ব্যবস্থাপনা: চাঁদ, সূর্য, পাহাড়, মেঘ ইত্যাদির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ফেরেশতা নিযুক্ত আছেন।
জান্নাত ও জাহান্নাম: জান্নাতের খেদমত এবং জাহান্নামের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ফেরেশতা আছেন।
মানুষকে রক্ষা: মুমিনদের মন্দ প্রভাব থেকে রক্ষা করা এবং তাদের জন্য দোয়া করা তাদের অন্যতম কাজ।
আল্লাহর ইবাদত: তারা সর্বদা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা (তাসবিহ) ও ইবাদতে রত থাকেন।
সংক্ষেপে, ফেরেশতারা আল্লাহর সৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তাদের প্রত্যেকের সুনির্দিষ্ট কাজ রয়েছে, যা তারা নিখুঁতভাবে পালন করেন।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করে দুনিয়া ও পরকালে ফেরেশতাদের যাবতীয় সহযোগিতা ও কল্যাণ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।
