Close Menu
    Facebook X (Twitter) Instagram
    PujiBarta

    • পুঁজিবাজার
      • বোর্ড সভা
      • লভ্যাংশ ঘোষণা
      • প্রথম প্রান্তিক
      • দ্বিতীয় প্রান্তিক
      • তৃতীয় প্রান্তিক
    • অর্থনীতি
    • আন্তর্জাতিক
    • চাকরি
    • জাতীয়
    • ব্যাংক বিমা
      • বীমা
      • ব্যাংক
    • শিক্ষা
    • আরও
      • খেলাধুলা
      • স্বাস্থ্য
      • ধর্ম
      • প্রযুক্তি
      • জ্বালানি-বিদ্যুৎ

    PujiBarta
    Home » মানুষ হত্যা করা ভয়াবহ পাপ
    ধর্ম

    মানুষ হত্যা করা ভয়াবহ পাপ

    ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫
    Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Telegram Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Pinterest Email Copy Link

    আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন

    مَنْ قَتَلَ نَفْسًۢا بِغَیْرِ نَفْسٍ اَوْ فَسَادٍ فِی الْاَرْضِ فَكَاَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِیْعًا.

    কেউ যদি হত্যা অথবা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টির অপরাধ ছাড়া কাউকে হত্যা করে, তবে সে যেন গোটা মানবজাতিকে হত্যা করল। —সূরা মায়েদা (০৫) : ৩২

    এ বার্তা থেকেই উপলব্ধি করা যায়, এ মহাপাপের শাস্তি কতটা ভয়াবহ ও কঠিন হতে পারে। কুরআন কারীম এ অপরাধের কঠিন বিচার ও শাস্তির ঘোষণা দিয়েছে। দুনিয়াতেও হত্যাকারীর জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে, আর আখেরাতে তো আরো কঠিন, আরো ভয়াবহ শাস্তি রয়েছেই।

    ইসলামের আদালতে হত্যার শাস্তি

    কুরআন কারীম অন্যায় হত্যার শাস্তিস্বরূপ কিসাসের বিধান আরোপ করেছে। কিসাস হল, জখমের বদলে অনুরূপ জখম এবং হত্যার বদলে হত্যা। কোনো ব্যক্তি যদি অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে, তাহলে কিসাসের বিধান হিসেবে এ অপরাধের বদলে তাকেও হত্যা করা হবে। এটি কুরআন কারীমের সুস্পষ্ট বিধান। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

    یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَیْكُمُ الْقِصَاصُ فِی الْقَتْلٰی اَلْحُرُّ بِالْحُرِّ وَ الْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَ الْاُنْثٰی بِالْاُنْثٰی.

    হে মুমিনগণ! যাদেরকে (ইচ্ছাকৃত অন্যায়ভাবে) হত্যা করা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি কিসাস(-এর বিধান) ফরয করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, গোলামের বদলে গোলাম, নারীর বদলে নারী(-কেই হত্যা করা হবে)। —সূরা বাকারা (০২) : ১৭৮

    আরো ইরশাদ হয়েছে

    وَ كَتَبْنَا عَلَیْهِمْ فِیْهَاۤ اَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَ الْعَیْنَ بِالْعَیْنِ وَ الْاَنْفَ بِالْاَنْفِ وَ الْاُذُنَ بِالْاُذُنِ وَ السِّنَّ بِالسِّنِّ وَ الْجُرُوْحَ قِصَاصٌ فَمَنْ تَصَدَّقَ بِهٖ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَّهٗ وَ مَنْ لَّمْ یَحْكُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الظّٰلِمُوْنَ.

    এবং আমি তাতে (তাওরাতে) তাদের জন্য বিধান লিখে দিয়েছিলাম, প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান ও দাঁতের বদলে দাঁত। আর জখমেও (অনুরূপ) বদলা নেওয়া হবে। অবশ্য যে ব্যক্তি তা ক্ষমা করে দেবে, তার জন্য তা গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে। যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসারে বিচার করে না, তারা জালেম। —সূরা মায়েদা (০৫) : ৪৫

    সুতরাং যদি কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে শরয়ী সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্বারা বা খুনির স্বীকারোক্তি দ্বারা হত্যার অপরাধ প্রমাণিত হয় এবং নিহতের পরিবার কিসাস দাবি করে, তাহলে বিচারকের জন্য আবশ্যক দ্রুত এ শাস্তি কার্যকর করা। বাস্তব প্রমাণের ভিত্তিতে হত্যার অপরাধ প্রমাণিত হলে এবং নিহতের পরিবার কিসাস দাবি করলে তাকে রেহাই দেওয়ার ক্ষমতা বা অধিকার কোনো ব্যক্তিরই নেই।

    হত্যাকারী যত প্রভাবশালীই হোক তার থেকে কিসাস নেওয়া হবে

    ইসলাম ইনসাফ ও ন্যায়ের ধর্ম। ধনী-দরিদ্র, রাজা-প্রজা, ঊর্ধ্বতন-অধঃস্তন সকল নাগরিকই ইসলামের চোখে সমান। পদ-পদবী, বংশ-মর্যাদা, বিত্ত বৈভব দ্বারা ইসলাম কাউকে বিচার করে না। অপরাধী যেই হোক অপরাধ প্রমাণিত হলে সাজা তাকে পেতেই হবে। হোক সে রাজা কিংবা প্রজা, ধনী বা গরিব, সমাজপতি বা সমাজচ্যুত। রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তিও যদি অতি সাধারণ কাউকে হত্যা করে, তবে তার থেকেও কিসাস নেওয়া হবে। রাষ্ট্রপ্রধান বা সমাজের উচ্চমর্যাদাসীন হওয়ার কারণে কেউ ছাড় পাবে না।

    জাহেলী যুগে বংশ মর্যাদা, জাতি, ধর্ম বা শ্রেণি বৈষম্যের কারণে দুর্বলরা বরাবরই জুলুম ও অবিচারের শিকার ছিল। কিসাসের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ছিল না। উঁচু বংশ ও বিত্তবানের কৃতদাসকে হত্যার বিনিময়ে দুর্বলদের আযাদ ব্যক্তিকেও হত্যা করা হত। একজনের বিনিময়ে তাদের একাধিককে হত্যা করা হত।

    আলকুরআন জুলুমের এ ধারাকে চিরতরে বিলুপ্ত করে দিয়েছে। ঘোষণা দিয়েছে কিসাস হত্যাকারী থেকেই গ্রহণ করা হবে, অন্য কারো থেকে নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَیْكُمُ الْقِصَاصُ فِی الْقَتْلٰی اَلْحُرُّ بِالْحُرِّ وَ الْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَ الْاُنْثٰی بِالْاُنْثٰی.

    হে মুমিনগণ! যাদেরকে (ইচ্ছাকৃত অন্যায়ভাবে) হত্যা করা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি কিসাস(-এর বিধান) ফরয করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, গোলামের বদলে গোলাম, নারীর বদলে নারী(-কেই হত্যা করা হবে)। —সূরা বাকারা (২) : ১৭৮

    অপরাধ প্রমাণ হলে কিসাসই একমাত্র শাস্তি, অন্য কিছু নয়

    কোনো ব্যক্তি যদি অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে এবং নিহতের পরিবার কিসাস দাবি করে, তাহলে মুসলিম বিচারকের কর্তব্য— কুরআনের বিধান অনুযায়ী কিসাস কার্যকর করা। এক্ষেত্রে অন্য কোনো শাস্তি যেমন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, আমৃত্যু কারাদণ্ড ইত্যাদি শাস্তি প্রদানের কোনো এখতিয়ারই তার নেই। কেননা আল্লাহ তাআলা কিসাসের বিধানকেই ফরয করেছেন।

    কিসাসের বিধান বর্ণনা করার পর আল্লাহ তাআলা বলেন

    وَ مَنْ لَّمْ یَحْكُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الظّٰلِمُوْنَ.

    আর যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসারে বিচার করে না, তারা জালেম। —সূরা মায়েদা (০৫) : ৪৫

    কিসাস অন্যায় রক্তপাত ও হত্যা রোধে রক্ষাকবচ

    রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হল, নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কোনো রাষ্ট্রের আইন ও বিচারব্যবস্থা যদি নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সে আইনের সার্থকতা কোথায়? ইসলাম মানবজীবন রক্ষায় ও তার নিরাপত্তা বিধানে প্রণয়ন করেছে কিসাসের মতো ইনসাফপূর্ণ কঠিন বিধান। পাশাপাশি হত্যাকারীর জন্য রয়েছে পরকালে ভয়াবহ আযাবের ঘোষণা। কুরআনের বাণী শাশ্বত ও চিরন্তন। কুরআনের কিসাসের বিধান কোনো রাষ্ট্রে যথাযথভাবে কার্যকর হলে অন্যায় রক্তপাত, হানাহানি, খুন-খারাবী ও হত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধ সমাজে বিস্তার লাভ করবে না। রাজনৈতিক প্রভাবে, ক্ষমতার দাপটে চাইলেই কেউ এ অপরাধ করার দুঃসাহস দেখাতে পারবে না। সমাজ থেকে অবিচার ও জুলুম বহু গুণে হ্রাস পাবে। শত-সহস্র বছরের ইতিহাস এর জলজ্যান্ত সাক্ষ্য। ইতিহাসে যে কোনো সমাজ ও রাষ্ট্রে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ দমন করতে কিসাসের বিধান যতটা কার্যকরী হয়েছে, মানব রচিত কোনো আইন দ্বারা এমন সফলতা আসেনি। তাই কিসাসের বিধান হল মানবজীবন রক্ষার হাতিয়ার ও রক্ষাকবচ। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    وَ لَكُمْ فِی الْقِصَاصِ حَیٰوةٌ یّٰۤاُولِی الْاَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ .

    এবং হে বুদ্ধিমানেরা! তোমাদের জন্য কিসাসের ভেতর রয়েছে জীবন (রক্ষার ব্যবস্থা)। আশা করা যায় তোমরা (এর বিরুদ্ধাচরণ) পরিহার করবে। —সূরা বাকারা (২) : ১৭৯

    ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কুরআন-সুন্নাহর আইনের বিকল্প নেই। এখানে একজন সাধারণ নাগরিক থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তির হক ও অধিকার সমান। হক ও অধিকারের ক্ষেত্রে সিআইপি বা ভিআইপি বলে আলাদা কোনো স্থান ইসলামে নেই। ইসলামী খেলাফত ব্যবস্থার সোনালি ইতিহাস দেখলে বিষয়টি কারো অস্পষ্ট থাকার কথা নয়।

    কেবল নিহতের ওয়ারিসগণই কিসাস মাফ করতে পারে, অন্য কেউ নয়

    পূর্বে আলোচিত হয়েছে, অন্যায় হত্যার বদলে নিহতের ওয়ারিসগণ হত্যাকারী থেকে কিসাস গ্রহণ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে কুরআন নিহতের ওয়ারিসকে এ অধিকারও দিয়েছে, তারা চাইলে হত্যাকারী থেকে কিসাস না নিয়ে তাকে মাফ করে দেবে, আবার দিয়ত তথা আর্থিক সুবিধা নিয়েও মাফ করতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    فَمَنْ عُفِیَ لَهٗ مِنْ اَخِیْهِ شَیْءٌ فَاتِّبَاعٌۢ بِالْمَعْرُوْفِ وَ اَدَآءٌ اِلَیْهِ بِاِحْسَانٍ ذٰلِكَ تَخْفِیْفٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَ رَحْمَةٌ ؕ فَمَنِ اعْتَدٰی بَعْدَ ذٰلِكَ فَلَهٗ عَذَابٌ اَلِیْمٌ.

    অতঃপর হত্যাকারীকে যদি তার ভাই (নিহতের ওলি)-এর পক্ষ থেকে কিছুটা ক্ষমা করা হয়, তবে ন্যায়ানুগভাবে (রক্তপণ) দাবি করার অধিকার (ওলির) আছে। আর উত্তমরূপে তা আদায় করা (হত্যাকারীর) কর্তব্য। এটা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক লঘুকরণ এবং একটি রহমত। এরপর কেউ সীমালঙ্ঘন করলে সে যন্ত্রণাময় শাস্তির উপযুক্ত। —সূরা বাকারা (০২) : ১৭৮

    অন্যত্র আরো ইরশাদ হয়েছে

    وَكَتَبْنَا عَلَیْهِمْ فِیْهَاۤ اَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَالْعَیْنَ بِالْعَیْنِ وَالْاَنْفَ بِالْاَنْفِ وَالْاُذُنَ بِالْاُذُنِ وَالسِّنَّ بِالسِّنِّ وَالْجُرُوْحَ قِصَاصٌ فَمَنْ تَصَدَّقَ بِهٖ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَّهٗ وَمَنْ لَّمْ یَحْكُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الظّٰلِمُوْنَ.

    এবং আমি তাতে (তাওরাতে) তাদের জন্য বিধান লিখে দিয়েছিলাম যে, প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান ও দাঁতের বদলে দাঁত। আর জখমেও (অনুরূপ) বদলা নেওয়া হবে। অবশ্য যে ব্যক্তি তা ক্ষমা করে দেবে, তার জন্য তা গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে। যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসারে বিচার করে না, তারা জালেম। —সূরা মায়েদা (০৫) : ৪৫

    ইসলামে মার্সি (সবৎপু) অর্থাৎ কিসাস মাফ করার অধিকার রয়েছে কেবল নিহতের ওয়ারিসগণের। অন্য কারো নিজের পক্ষ থেকে হত্যাকারীকে ক্ষমা করার বা শাস্তি পরিবর্তন করার কোনো অধিকার নেই। কোনো রাষ্ট্রের আইনে যদি খুনিকে ক্ষমা করে দেওয়ার অধিকার রাষ্ট্রপ্রধানকে দেওয়া থাকে আর সে ক্ষমতাবলে খুনিকে তিনি ক্ষমা করে দেন, তবে দেশীয় আইনে সে ক্ষমা পেয়ে গেলেও আল্লাহর আইনে সে ক্ষমা পাবে না। আলকুরআন এ অধিকার তো কোনো রাষ্ট্রপতিকে দেয়নি। ইতিহাসে যেসকল সমাজে মানব রচিত আইনে বিশেষ ব্যক্তিবর্গকে এ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তার কুফল ও অশুভ পরিণামও সে সমাজ দেখতে পেরেছে।

    তবে মনে রাখতে হবে, কুরআনের অন্যান্য বিধানের মতো কিসাসও কার্যকর করার অধিকার কেবল সরকারের। নিহতের আত্মীয়বর্গ বা অন্য কোনো ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে এসব বিধান কার্যকর করার অধিকার রাখে না। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হলে রাষ্ট্র সে রায় কার্যকর করবে।

    আখেরাতে অন্যায় হত্যাকাণ্ডের বিচার

    আখেরাতে সর্বপ্রথম বিচার হবে হত্যাকাণ্ডের

    কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার আদালতে সকল অন্যায় অবিচারের বিচার হবে। সেখানে আল্লাহর হকের যেমন বিচার হবে, তেমনি বান্দার হকেরও বিচার হবে। বান্দার হক সম্পর্কিত যত মোকাদ্দমা রয়েছে, কিয়ামতের দিন তার মধ্যে সর্বপ্রথম বিচার হবে রক্তপাত ও হত্যার। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—

    أَوَّلُ مَا يُقْضূى بَيْنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي الدِّمَاءِ.

    কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম যে মোকাদ্দমার ফয়সালা হবে, তা হল রক্তপাত (হত্যা) সম্পর্কিত। —সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৬৭৮

    মানব রচিত আইনে মিথ্যা, জালিয়াতি, ঘুষ, দূর্নীতি বা প্রভাব প্রতিপত্তির জোরে কেউ পার পেয়ে গেলেও আল্লাহর আদালতে সেদিন কেউই বাঁচতে পারবে না।

    হত্যার শাস্তি আখেরাতের বিচারে

    আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন

    وَ مَنْ یَّقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهٗ جَهَنَّمُ خٰلِدًا فِیْهَا وَ غَضِبَ اللهُ عَلَیْهِ وَ لَعَنَهٗ وَ اَعَدَّ لَهٗ عَذَابًا عَظِیْمًا .

    আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তার শাস্তি হবে জাহান্নাম। তার মধ্যে সে সর্বদা থাকবে এবং আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হবেন ও তাকে অভিশাপ দেবেন। তেমনিভাবে তিনি তার জন্য প্রস্তুত রেখেছেন ভীষণ শাস্তি। —সূরা নিসা (০৪) : ৯৩

    অন্যত্র আরো ইরশাদ হয়েছে

    یُّضٰعَفْ لَهُ الْعَذَابُ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ وَ یَخْلُدْ فِیْهٖ مُهَانًا.

    (যে শিরক ও অন্যায় হত্যাকাণ্ড এবং ব্যভিচারে লিপ্ত হবে) কিয়ামতের দিন তার শাস্তি বৃদ্ধি করে দ্বিগুণ করা হবে এবং লাঞ্ছিত অবস্থায় তাতে সদা-সর্বদা থাকবে। —সূরা ফুরকান (২৫) : ৬৯

    উল্লিখিত আয়াতদ্বয় থেকে স্পষ্ট, ইচ্ছাকৃত অন্যায়ভাবে কোনো মুসলমানকে হত্যা করা হলে এর পরিণামে

    এক. জাহান্নামের দীর্ঘস্থায়ী আযাব ভোগ করতে হবে।

    দুই. হত্যাকারীর প্রতি আল্লাহর গযব নাযিল হবে।

    তিন. সে আল্লাহর লানতপ্রাপ্ত হবে।

    চার. জাহান্নামে তার আযাব দ্বিগুণ হবে।

    একজন মুমিনের জীবন আল্লাহর কাছে কত মূল্যবান এবং তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার অপরাধ ও শাস্তি কী তা নিম্নের হাদীস থেকেও স্পষ্ট।

    আবু সাঈদ খুদরী রা. ও আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরাশাদ করেছেন

    لَوْ أَنَّ أَهْلَ السّمَاءِ وَالأَرْضِ اشْتَرَكُوا فِي دَمِ مُؤْمِنٍ لَأَكَبّهُمُ اللهُ فِي النارِ.

    আসমান ও যমীনবাসীর সকলে যদি একজন মুমিনের হত্যায় শরীক থাকে তবুও আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাদের সকলকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। —জামে তিরমিযী, হাদীস ১৩৯৮

    যে অপরাধ সম্পর্কে কুরআন-হাদীসে এত ভয়াবহ শাস্তি ও পরিণতির কথা বলা হয়েছে, কোনো মুসলমান সে অপরাধ করতে পারে না। আর যদি কোনো সমাজে এ অপরাধ ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা বন্ধ করার একমাত্র উপায় হল, আল্লাহ তাআলার বিধান বাস্তবায়ন করা।

    আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কুরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মেনে চলার তাওফীক দান করুন। খুন-খারাবির মতো ঘৃণ্য অপরাধ নির্মূল করতে সর্বত্র কুরআন-সুন্নাহর বিধান বাস্তবায়নের তাওফীক দান করুন।

    ভয়াবহ পাপ মানুষ হত্যা করা

    সম্পর্কিত খবর

    ফিতরার হার নির্ধারণ

    ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

    রমজানের গুরুত্ব ও ফজিলত

    ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

    কুরআন মজীদ ও সহীহ হাদীসের আলোকে রোযার গুরুত্ব ও ফযীলত

    ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

    প্রভাবশালী ১০ মুসলিম বিজ্ঞানী

    জানুয়ারি ৩০, ২০২৬

    যে আত্মীয়দের যাকাত দেওয়া যাবে না

    জানুয়ারি ২৯, ২০২৬

    কঠিন বিপদের সময় দোয়া কবুল হয় যে আমলে

    জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
    পুঁজিবাজারের সর্বশেষ

    দুই ঘণ্টায় লেনদেন ২৯৮ কোটি টাকা

    আগস্ট ২৩, ২০২৬

    ২৩ আগস্ট (রবিবার) সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের…

    দর পতনের শীর্ষে জিবিবি পাওয়ার

    আগস্ট ২০, ২০২৬

    লেনদেনের শীর্ষে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ

    আগস্ট ২০, ২০২৬
    সর্বশেষ সংবাদ

    প্রাইম ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

    সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

    প্রাইম ব্যাংক পিএলসি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকটি সিনিয়র…

    নিয়োগ দেবে এসএমসি

    সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

    সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানি (এসএমসি) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি সিনিয়র অ্যান্ড্রয়েড…

    আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার ও জেনারেল হাসপাতালে চাকরির সুযোগ

    সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

    আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার ও জেনারেল হাসপাতাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয়…

    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • পুঁজিবার্তা
    • গোপনীয়তার নীতি
    • মন্তব্যের নীতিমালা
    • শর্তাবলী
    • পুঁজিবার্তা
    • গোপনীয়তার নীতি
    • মন্তব্যের নীতিমালা
    • শর্তাবলী

    © ২০২৫ | কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.