পবিত্র কোরআন অনুযায়ী, ঈসা (আ.)-এর জন্ম ছিল এক অলৌকিক ঘটনা, যেখানে কোনো পুরুষের স্পর্শ ছাড়াই কুমারী মা মারিয়াম (আ.) জিবরাঈল (আ.)-এর ফুঁ দেওয়ার মাধ্যমে গর্ভধারণ করেন এবং আল্লাহ তাআলার নির্দেশে ‘হও’ বলার মাধ্যমে তাঁর জন্ম হয়, যা আদমের সৃষ্টির মতোই এক নিদর্শন হিসেবে বিবৃত হয়েছে। তিনি পিতা ছাড়া জন্মগ্রহণ করে তাঁর জন্মের পর দোলনায় থেকেই কথা বলেছিলেন এবং নিজেকে আল্লাহর বান্দা ও রাসুল হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন, যা তাঁর মা মারিয়াম (আ.)-কে মানুষের প্রশ্নের মোকাবিলা করতে সাহায্য করেছিল।
মারইয়াম শব্দটি কোরআন কারিমে নানানভাবে ৩৫ বার উল্লিখিত হয়েছে। হজরত ঈসা আ. এর সৃষ্টি হজরত আদম আ. এর মতো। আল্লাহ কোরআনে বলেন, আল্লাহর নিকট নিশ্চয় ঈসা আ. এর দৃষ্টান্ত আদম আ. এর দৃষ্টান্তসদৃশ। তিনি তাকে মৃত্তিকা হতে সৃষ্টি করেছিলেন, অতঃপর তাকে বলেছিলেন ‘হও’, ফলে সে হয়ে গেল। (সুরা আল ইমরান ৫৯)
জন্মের বিবরণ: মারিয়ামের পবিত্রতা: মারিয়াম (আ.) ছিলেন একজন পবিত্র কুমারী নারী, যিনি আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন ছিলেন।
জিবরাঈল (আ.)-এর আগমন: একদিন জিবরাঈল (আ.) মানুষের রূপ ধরে তাঁর কাছে আসেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে এক পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দেন।
অলৌকিক গর্ভধারণ: মারিয়াম (আ.) বিস্ময়ের সাথে জিজ্ঞাসা করেন, কীভাবে তাঁর সন্তান হতে পারে যখন কোনো পুরুষ তাঁকে স্পর্শ করেনি? জিবরাঈল (আ.) বলেন, “আল্লাহ বলেন, ‘এ আমার জন্য সহজ, এবং আমি তাকে মানুষের জন্য নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে রহমত করব। এটা একটি সিদ্ধান্তকৃত বিষয়'” (সূরা মারিয়াম)। এরপর জিবরাঈল (আ.) তাঁর শরীরে ফুঁ দেন এবং তিনি গর্ভ ধারণ করেন।
ঈসার (আ.) কথা বলা: জন্মের পরপরই যখন লোকজন মারিয়াম (আ.)-কে তার সন্তান নিয়ে প্রশ্ন করে, তখন নবজাতক ঈসা (আ.) দোলনায় বসেই কথা বলতে শুরু করেন এবং বলেন, “আমি আল্লাহর বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন” (সূরা মারিয়াম)।
মূল শিক্ষা: ঈসা (আ.)-এর জন্ম ছিল আল্লাহর কুদরতের এক বড় নিদর্শন, যা প্রমাণ করে আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন।
ইসলামে ঈসা (আ.)-কে: একজন গুরুত্বপূর্ণ নবী হিসেবে সম্মান করা হয়, যিনি আল্লাহর বার্তা প্রচার করতে এসেছিলেন।
