দোয়া শব্দের আভিধানিক অর্থ আহ্বান করা বা প্রার্থনা করা। পরিভাষায় দোয়া হলো কল্যাণ ও উপকার লাভের উদ্দেশ্যে এবং ক্ষতি ও অপকার রোধে মহান আল্লাহকে ডাকা এবং তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।
প্রিয় নবীজি (সা.) বলেন, ‘দোয়াই ইবাদত।’ (বুখারি ও মুসলিম) ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কিছু চায় না, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন।’ (তিরমিজি: ৩৩৭৩)
দোয়া কবুলের অন্যতম শর্ত হলো হালাল উপার্জন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে রাসুলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো এবং সৎকাজ করো; তোমরা যা করো, সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবহিত।’ (সুরা-২৩ মুমিনুন, আয়াত: ৫১)
ইবাদতের মূল অংশ: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “দোয়াই ইবাদত”।
আল্লাহর নৈকট্য লাভ: দোয়া করার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে এবং তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণ করে, যা আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
সৃষ্টিকর্তার জবাব: আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা আমাকে ডাক (আমার নিকট দুআ কর) আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব”।
ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা: দোয়া বিপদ-আপদ এবং অপকার থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
আখিরাতের জন্য সঞ্চয়: যদি দুনিয়াতে দোয়া কবুল না হয়, তবুও আল্লাহ তার জন্য আখিরাতের সওয়াব জমা করে রাখেন।
দোয়া কবুলের সময়।
কিছু নির্দিষ্ট সময়ে দোয়া বেশি কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেমন:
ফজরের সময়।
আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত।
জুমার দিন, ইমামের মিম্বরে বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত।
শবে কদর, শবে বরাত এবং আরাফার মাঠে।
সিজদারত অবস্থায় এবং মুসাফির অবস্থায়ও দোয়া কবুল হয়।
দোয়া করার নিয়ম।
দোয়া করার আগে আল্লাহর প্রশংসা করা এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর দরুদ পাঠ করা উচিত।
দোয়ার সময় আন্তরিকভাবে বিশ্বাস ও ভক্তি রাখা প্রয়োজন।
প্রয়োজনে নফল নামাজ পড়ে দোয়া করা যেতে পারে।
