বিশ্বের ১৩৭টি দেশের উদ্ভাবন সক্ষমতা মূল্যায়নে প্রকাশিত গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স (জিআইআই) ২০২৬-এ বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম। তবে মোবাইল অ্যাপ তৈরিতে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে দেশটি। এ সূচকে ৬৭.৬ স্কোর নিয়ে বিশ্বে ৬৭তম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া সরকারি অনলাইন সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অগ্রগতির চিত্র উঠে এসেছে সূচকে।
ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউআইপিও) প্রকাশিত জিআইআই ২০২৬ অনুযায়ী, সামগ্রিক উদ্ভাবন সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ২১.৫। গত বছর ১০৬তম অবস্থানে থাকা দেশটি এবার এক ধাপ এগিয়েছে। নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২০তম। অন্যদিকে, মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দশম।
উদ্ভাবন সক্ষমতা মূল্যায়নের এ সূচকে একটি দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, অবকাঠামো, সৃজনশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক বিবেচনা করা হয়। এতে বাংলাদেশের কিছু খাতে অগ্রগতি দেখা গেলেও সামগ্রিক উদ্ভাবন সক্ষমতায় আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।
আঞ্চলিক অবস্থানে বাংলাদেশ
মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ৩৮তম স্থান নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। এ অঞ্চলে কাজাখস্তান ৭৩তম এবং ভুটান ৭৪তম অবস্থানে রয়েছে। কিরগিজস্তান চার ধাপ এগিয়ে ৯২তম এবং পাকিস্তান চার ধাপ এগিয়ে ৯৫তম স্থানে রয়েছে। নেপাল রয়েছে ১০৪তম স্থানে। বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম।
পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনাম ৪৩তম, থাইল্যান্ড ৪৪তম, মঙ্গোলিয়া ৭২তম এবং কম্বোডিয়া ৯৩তম স্থানে রয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব ৪২তম, তিউনিসিয়া ৭১তম, মিসর ৮৩তম, আজারবাইজান ৮৫তম, লেবানন ৮৬তম এবং আলজেরিয়া ১১১তম অবস্থানে রয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোয় অগ্রগতি
জিআইআই ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের স্কোর ৪০.২। এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক অবস্থান ৮৪তম। অবকাঠামো খাতের অধীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) উপসূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৬৫.৫, অবস্থান ৯৩তম।
আইসিটি সুবিধা বা অ্যাকসেস সূচকে বাংলাদেশ ৫৫.৪ স্কোর নিয়ে ১১৭তম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, আইসিটি ব্যবহারের সূচকে ৭২.৬ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৯১তম।
সরকারি অনলাইন সেবার ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এ সূচকে ৬৮.৪ স্কোর নিয়ে ৬৭তম স্থান অর্জন করেছে দেশটি। ডিজিটাল মাধ্যমে সরকারি সেবা প্রদানের সক্ষমতা মূল্যায়নে এ সূচক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সৃজনশীল উদ্ভাবনে চ্যালেঞ্জ
সৃজনশীল উদ্ভাবন বা ক্রিয়েটিভ আউটপুট খাতে বাংলাদেশের স্কোর ১৬.৮। এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক অবস্থান ৮৭তম। অদৃশ্য সম্পদ বা ইনট্যাঞ্জিবল অ্যাসেট উপসূচকে ২০.২ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ রয়েছে ৮১তম স্থানে।
এ উপসূচকের আওতায় ইনট্যাঞ্জিবল অ্যাসেট ইনটেনসিটি সূচকে ৪০.৪ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৬১তম। তবে ট্রেডমার্ক সূচকে ৪.৮ স্কোর নিয়ে দেশটি রয়েছে ১২৪তম স্থানে। শিল্প নকশা বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইন সূচকে ০.৬ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৭তম।
ক্রিয়েটিভ গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ২.৮। অন্যদিকে, অনলাইন সৃজনশীলতা সূচকে ২৩.৮ স্কোর নিয়ে দেশটির অবস্থান ৯০তম।
অনলাইন সৃজনশীলতার উপসূচকগুলোর মধ্যে শীর্ষ স্তরের ডোমেইন সূচকে ০.২ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ ১২৩তম স্থানে রয়েছে। গিটহাব কমিট সূচকে ৩.৬ স্কোর নিয়ে অবস্থান ৯৮তম।
সব মিলিয়ে, মোবাইল অ্যাপ তৈরি ও সরকারি অনলাইন সেবার মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি থাকলেও সামগ্রিক উদ্ভাবন সক্ষমতা বাড়াতে তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা সম্প্রসারণ, সৃজনশীল সম্পদের বিকাশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে জিআইআইয়ের তথ্য।
সূত্র: ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন (ডব্লিউআইপিও), গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স ২০২৬।
