এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ২০২৫-এর শিরোপা জিতল পাকিস্তান। আগে ব্যাট করে সামির মিনহাসের ১৭২ রানের ইনিংসে ভর করে ৩৪৭ রান সংগ্রহ করে দলটি। জবাবে ভারত অলআউট হয়েছে ১৫৬ রানে। ফলে, ১৯১ রানের বিশাল জয়ে শিরোপা জিতল পাকিস্তান। টুর্নামেন্টটিতে আগের দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন ছিল বাংলাদেশ।
পাকিস্তান অনূর্ধ্ব ১৯ দল বনাম ভারত অনূর্ধ্ব ১৯ দল
পাকিস্তানের দেওয়া বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেন দুই ভারতীয় ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী ও আয়ুশ মহত্রে। তবে তা স্থায়ী হয় মাত্রই ১৪ বলে। ১৪ বলে ৩২ রানের ঝড়ো জুটি গড়েন তারা। এরপরে আর ম্যাচে হাসতে পারেনি ভারত, বাকিটা শুধুই পাকিস্তানের সাফল্যের গল্প।
৭ বলে ২ রান করা ওপেনার আয়ুশ আউট হওয়ার মাধ্যমে ভেঙে যায় ভারতের উদ্বোধনী জুটি। সূর্যবংশীর সাথে যোগ দিয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন অ্যারন জর্জ। তবে তার ক্যামিও স্থায়ী হয় মাত্র ৯ বল। ৯ বলে ১৬ রান করে জর্জও বিদায় নেন।
তার পরের বলেই আউট হন সূর্যবংশী। ১০ বলে ২৬ রানের ঝড় তুলে বিদায় নেন তিনি। এই আলোচিত ব্যাটারের ব্যাট থেকে আসে একটি চার ও তিনটি ছক্কা। ভারতের দুই ওপেনারকেই শিকার করে আলি রাজা।
এরপর কেবলই আসা-যাওয়ার মিছিলে শামিল হন ভারতের ব্যাটাররা। একে একে বিদায় নিতে নিতে ৯৪ রানের মধ্যেই ফিরে যান ভারতের সাত ব্যাটার, যদিও তাদের রানের চাকা ছিল সচল। দশম উইকেটে গিয়ে ইনিংসের সবচেয়ে বড় ৩৬ রানের জুটি পায় ভারত। অবশেষে ১৫৬ রানে অলআউট হয় দলটি। দশম ব্যাটার দীপেশ করেন ইনিংসের সর্বোচ্চ ৩৬ রান। ১৬ বলের ক্যামিও ইনিংসে তিনি চারটি চার ও দুইটি ছক্কা।
পাকিস্তান ম্যাচ জিতেছে ১৯১ রানের বিশাল ব্যবধানে। ভারত অলআউট হয়েছে মাত্র ২৬.২ ওভারে। পাকিস্তানের পক্ষে চারটি উইকেট নিয়েছেন আলী রাজা। দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন সাইয়াম, আব্দুল সোবহান ও হুজাইফা আহসান।
তার আগে টস হেরে ব্যাট করতে দুর্দান্ত শুরুর ইঙ্গিত দেয় পাকিস্তান। তবে ওপেনার হামজা জহুর আউট হলে ভারত সাফল্য পায়। ৩১ রানে ভেঙে যায় পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। ১৪ বলে ১৮ রান করে বিদায় নেন হামজা। একটি চার ও দুইটি ছক্কা ছিল তার ছোট ইনিংসে।
দ্বিতীয় উইকেটে বড় জুটি পায় পাকিস্তান। উসমান খানকে নিয়ে ৭৯ বলে ৯২ রানের জুটি গড়েন ওপেনার সামির মিনহাস। উসমান আউট হওয়ার মাধ্যমে ভেঙে যায় এই জুটি। ৪৫ বলে ৩৫ রান বিদায় নেন তিনি। উসমানের ব্যাট থেকে আসে তিনটি চার ও দুইটি ছক্কা।
তারপর আরো দুর্দান্ত জুটি পায় পাকিস্তানি অনূর্ধ্ব-১৯ দল। তৃতীয় উইকেটের জুটিতে আসে ১২৫ বলে ১৩৭ রান। সেখানে আহমেদ হুসাইনের অবদান ছিল ৭২ বলে ৫৬ রান। দুইটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি আউট হলে ভেঙে যায় জুটি। সঙ্গী হারাতে হারাতেই দুর্দান্ত গতিতে ছুটে যান সামির।
চতুর্থ উইকেটে ফারহান ইউসুফের সাথে ৩২ বলে ৪২ রানের জুটি গড়ে অবশেষে আউট হন সামির। তাকে থামান দীপেশ দেবেন্দ্রন। ক্যাচ আউট হওয়ার আগে ১১৩ বলে ১৭২ রান অসাধারণ ইনিংস খেলেন সামির। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল দৃষ্টিনন্দন ১৭টি চার ও ৯টি ছক্কায়। সামিরের স্ট্রাইকরেট ছিল ১৫২.২১।
তারপর হুজাইফা আহসান ও ফারহান দ্রুতই বিদায় নেন। ফারহান ১৮ বলে ১৯ রান করলেও হুজাইফা রানের খাতা খুলতে পারেননি। ফলে পাকিস্তানের রান তোলার গতিও কমে যায় এবং দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে দলটি।
তবুও ৩৪৭ রানের বড় পুঁজি পায় পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল। নির্ধারিত ৫০ ওভারে আটটি উইকেট হারিয়ে ৩৪৭ রান সংগ্রহ করে তারা।
তথ্য সূত্র: বিডিক্রিকটাইম
